মহাকর্ষীয় ধ্রুবকের সার্বজনীনতা বা সার্বিকতা [Universality of the Law of Gravitation]
প্রযোজ্যতা
বা কারনঃ
নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র বলে যে দুটি বস্তুর মধ্যে আকর্ষণ বল শুধুমাত্র তাদের ভর ও তাদের মধ্যের দূরত্বের ওপর নির্ভর করে। তাঁর মতে, এই বল বস্তু দুটির মধ্যের মাধ্যম, রাসায়নিক উপাদান, বস্তু দুটির অবস্থা, উষ্ণতা ইত্যাদির উপর নির্ভর করে না। পৃথিবীর ওপর অবস্থিত কোন ছোট বস্তুই হোক কিংবা হোক সে কোন দূর মহাকাশের বৃহৎ গ্রহ- গ্রহানুপুঞ্জ, সবার জন্যই এই সূত্রটি সমানভাবে প্রযোজ্য।তাই এই সূত্রটিকে সার্বজনীন বলা সার্থক। তাই এটিকে সার্বজনীন মহাকর্ষীয় ধ্রুবক বলা হয়।
ত্রুটি
বা ব্যতিক্রমঃ
বিজ্ঞানী আইন্সটাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব (Theory ofRelativity) অনুসারে –
- কোন বস্তুর ভর তার বেগের ওপর নির্ভর করে, তাহলে নিউটনের মহাকর্ষও বেগের ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত।
- আবার, কোন বস্তুর মধ্যবর্তী দুরত্ব তার পর্যবেক্ষকের গতিবেগের ওপর নির্ভর করে।যদি, স্থির থেকে পর্যবেক্ষণ করা যায়, আর গতিশীল থেকে যদি দুরত্ব মাপা হয়, উভয়ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন মান বেরবে। তাই এক্ষেত্রেও ত্রুটির সম্ভাবনা।
- দুটি বস্তুর মধ্যে বা কাছাকাছি যদি কোন ভারি বস্তু অবস্থান করে তবে ওই ভারি বস্তুটি ওই বস্তু দুটির মধ্যের দুরত্ব কে প্রভাবিত করে।
- আবার অতি ক্ষুদ্র দূরত্বের ( যেমন- পারমানবিক দূরত্বের ক্ষেত্রে ) এই নিউটনের মহাকর্ষ সূত্রটি প্রযোজ্য নয়।
এইসব কারনেই নিউটনের মহাকর্ষ সুত্রকে সার্বজনীন বলা চলে না।
তবে,
আইন্সটাইনের সুত্রেও
মহাকর্ষীয় ধ্রুবক G -এর সার্বজনীনতা ক্ষুণ্ণ হয়নি।
.png)
.png)
Comments
Post a Comment