বৃহৎ আকার বস্তুর ক্ষেত্রে মহাকর্ষীয় আকর্ষণঃ
[Gravitational Attraction for Expanded
Bodies]
যে কোন বৃহৎ আকার বস্তু হল অসঙ্খ্য ছোট ছোট বস্তুকণার সমন্বয়ে
গঠিত। দুটি বৃহৎ বস্তুকে যদি গোলাকার ধরা হয়, তাহলে
তাদের মধ্যের দুরত্ব বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন হবে। তাহলে তো তাদের
মধ্যেকার মহাকর্ষীয় আকর্ষণ বল সঠিক ভাবে পরিমাপ করতে হলে,
প্রথম বস্তুর প্রতিটি বস্তুকণার সঙ্গে, দ্বিতীয় বস্তুর প্রতিটি বস্তুকণার
দূরত্ব পরিমাপ করতে হবে আর প্রতিটি বস্তুকণার সঙ্গে অপর বস্তুর
প্রতিটি বস্তুকণার মহাকর্ষীয় আকর্ষণ বল ভিন্ন ভিন্ন হবে। তাহলে তো
ভীষণ সমস্যা [তবে যদি কোন দুটি বস্তুকণার মধ্যের দূরত্ব, তাদের আকারের
তুলনায় ছোট হয়, তবে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়]। এখন উপায়??
Consept অনুযায়ী, গোলাকার বস্তুর ক্ষেত্রে আমরা মনে করি, তার
সমস্ত ভর তার ভরকেন্দ্রে নিহিত আছে। সেই অনুসারে, বিজ্ঞানীরা
সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে, বৃহৎ আকার বস্তুর ক্ষেত্রে বস্তু দুটি যত
বড়ই হোক না কেন যদি বস্তু দুটির মধ্যের দূরত্ব তাদের আকারের
তুলনায় বড় হয়, তাহলে বস্তু দুটিকে বিন্দু বস্তু রুপে কল্পনা করা হবে
এবং তাদের ভরকেন্দ্র থেকেই দূরত্ব পরিমাপ করা হবে। এখন
তাহলে আমরা বস্তু দুটিকে তাদের ভরকেন্দ্রে অবস্থিত বস্তুকণা
হিসেবেও কল্পনা করতে পারি।
উদাহরণ সহকারে বলা যায় যে, সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যে কোনটিকেই
বস্তুকণা রুপে ভাবা যায় না, তবুও তাদের মধ্যের দূরত্ব তাদের
আকারের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায়, মহাকর্ষ বল নির্ণয়ের
ক্ষেত্রে তাদেরকে নিজ নিজ ভরকেন্দ্রে অবস্থিত বিন্দু বস্তুকণা রুপে
কল্পনা করা হয়।
এক্ষেত্রে, পৃথিবীর ভর m , সূর্যের ভর M এবং তাদের ভরকেন্দ্রের
দূরত্ব r হলে, তাদের পারস্পরিক মহাকর্ষ বল= হবে।
কোন সমসত্ত্ব গোলাকার (Homogeneous Spherical) বস্তুর সঙ্গে
তার বাইরের কোন বস্তকনার আকর্ষণ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়,
তখন ধরে নেওয়া হয় যে তার সমস্ত ভর তার কেন্দ্রে নিহিত
(Concentrated) আছে [কোন বস্তুকে সমসত্ত্ব ধরা হয়, যখন তার বিভিন্ন
অংশে তার ভৌত ধর্মগুলি একই থাকে।] এবং নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র
প্রয়োগ করা হয়।

Comments
Post a Comment